Posts

রাগান্বিত অবস্থায় শিশুকে প্রহার করা উচিত নয়। মুফতি তকী উছমানী হাফিঃ

Image
হযরত থানভী রাহ. বলেন, ‘রাগান্বিত অবস্থায় কখনও শিশুকে প্রহার করবে না (পিতা ও উস্তাদ) উভয়ের জন্যই এই কথা)। রাগ প্রশমিত হওয়ার পর চিন্তা-ভাবনা করে শাস্তি দিবে। উত্তম শাস্তি হল ছুটি মওকুফ করে দেওয়া। শিশুর উপর এর খুব প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। মিয়াজী ছাত্র প্রহারে এজন্য স্বাধীন হয়ে যান যে, তাকে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না। শিশুর তো প্রশ্ন করার যোগ্যতাই নেই আর অভিভাবক মিয়াজীকে পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছেন এই বলে যে, ‘হাড্ডি আমাদের, আর চামড়া মিয়াজীর’! মনে রাখবে, যার অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না তার সম্পর্কে প্রশ্নকারী স্বয়ং আল্লাহ। এমনকি কোনো যিম্মী (মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক, যার নিরাপত্তা মুসলিম শাসকের যিম্মায়) কাফিরের উপর যদি কোনো শাসক জুলুম করে তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। (আনফাসে ঈসা পৃ. ১৭৩) শিশুদেরকে প্রহার করা অত্যন্ত ভয়াবহ শিশুদেরকে প্রহার করা খুবই ভয়াবহ। আমাদের পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. বলতেন, অন্যান্য গুনাহ তো তওবার মাধ্যমে মাফ হতে পারে, কিন্তু শিশুদের উপর জুলুম করা হলে এর ক্ষমা পাওয়া খুবই জটিল। ক...

দ্বীনি (ইসলামী) শিক্ষা অর্জন করা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ তা এই একটি হাদিস থেকেই অনুধাবন করা যায়।

Image
  হজরত আবু দারদাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- منْ سَلَكَ طَريقًا يَبْتَغِي فِيهِ علْمًا سهَّل اللَّه لَه طَريقًا إِلَى الجنةِ، وَإنَّ الملائِكَةَ لَتَضَعُ أجْنِحَتَهَا لِطالب الْعِلْمِ رِضًا بِما يَصْنَعُ، وَإنَّ الْعالِم لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ منْ في السَّمَواتِ ومنْ فِي الأرْضِ حتَّى الحِيتانُ في الماءِ، وفَضْلُ الْعَالِم عَلَى الْعابِدِ كَفَضْلِ الْقَمر عَلى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ، وإنَّ الْعُلَماءَ وَرَثَةُ الأنْبِياءِ وإنَّ الأنْبِياءَ لَمْ يُورِّثُوا دِينَارًا وَلا دِرْهَمًا وإنَّما ورَّثُوا الْعِلْمَ، فَمنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحظٍّ وَافِرٍ . أخرجه الترمذي في سننه : رقم ٢٦٨٢ و اللفظ له ، و أبو داود في سننه , كتاب العلم : رقم ٣٦٤١ ; و ابن ماجه في سننه : رقم ٢٢٣ “যে ইলমের অন্বেষনে পথ ধরে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথকে সহজ করে দেন। আর ইলমের অন্বেষী যা (কিছু কষ্ট-ক্লেশ ও শ্রম বরদাস্ত) করে, তাতে ফিরেশতাকুল খুশি হয়ে তার জন্য অবশ্যই তাদের পালকগুলিকে বিছিয়ে দেয়। নিশ্চয়ই (একজন) আলেম (হল এমন মর্যাদাবান ব্যাক্তি) যার জন্য -আসমান সমূহে যারা আছে এবং জামিনে যারা আছে -এমন...

ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ শাখার পক্ষ থেকে মাওঃ জুয়েল- কে বিদায়ী সংবর্ধনা।

Image
  গত ১১/০৯/২০২১ইং রোজঃ শনিবার, বাদ মাগরিব। স্থানীয় নছিরগঞ্জ বাজারে #ছাত্র_জমিয়ত_নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় ছাত্র জমিয়ত হাজীপুর ইউ'পি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মাওঃ সাইফুল ইসলাম জুয়েল-কে উনার প্রবাস গমন উপলক্ষে ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উক্ত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনঃ ছাত্র জমিয়ত শরীফপুর ইউ'পি শাখার সহ-সভাপতি মাওঃ ফখরুল ইসলাম। ছাত্র জমিয়ত শরীফপুর ইউ'পি শাখার সভাপতি মাওঃ অলিউর রহমান। ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ক্বারী মোঃ নাইমুল ইসলাম। ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সিনিয়র সদস্য মাওঃ শরীফুল ইসলাম। ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার প্রচার সম্পাদক মাওঃ হাসান আহমদ। ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সিনিয়র সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন। ছাত্র জমিয়ত নছিরগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সহ-কোষাধ্যক্ষ মোঃ মাহিন আহমদ প্রমুখ। পরিশেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মাওঃ সাইফুল ইসলাম...

মেয়েকে লেখা খতিব উবায়দুল হক রহ-এর চিঠি

Image
খতিব উবায়দুল হক রহ.- এর বড় মেয়ে রায়হানা হক সিলেটে তার দাদীর কাছে থাকতেন। যখন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো, সে সময় ১৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে মেয়েকে পত্র লিখেছিলেন। চিঠিটির আংশিক তুলে ধরা হলো— স্নেহের…! এক বছর থেকে তোমার স্কুল শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তুমি লেখাপড়া ছেড়ে দিবে। বরং এখন আরও বেশি বেশি পড়া উচিত। লেখার চর্চা করাও দরকার। বিশেষভাবে দীনি কিতাবাদি এবং উর্দু বেহেশতী জেওর নিয়মিত পড়বে। দৈনিক দাদিজানের কাছে বসে বেহেশতী জেওর থেকে তিনি যতটুকু বলবেন ততটুকু পড়বে। তার কাছে জিজ্ঞেস করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবে। কিতাব ছাড়াও আরেকটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা অত্যাধিক জরুরী। তা অর্জন করতে না পারলে ডিগ্রি অর্জন করার কোনো মূল্য থাকে না। এ জিনিসটি হচ্ছে ‘ছালিক্বা’ তথা আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জন এবং গৃহস্থ বিষয়ক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার শিক্ষা গ্রহণ। যে নারী এগুলো খেয়াল করে না, তাকে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়। মানুষ তাকে ঘৃণা করে। পক্ষান্তরে যে মেয়ে এগুলো খেয়াল রাখে, লোকে তার তারিফ করে, সম্মান করে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে...

❝গল্প লেখার কৌশল❞

Image
লেখাটা “কীভাবে গল্প লিখবো” সেটা নিয়ে নয়। বরং “কীভাবে লিখতে হয়,” তা নিয়ে। যেমন ধরুন, আপনাকে একটা ঘর বানাতে বলা হলে আপনি কী কী বানাবেন? মেঝে, চারটা দেয়াল, ছাদ, জানালা, দরজা। যদি, আপনি খুব সুন্দর করে শুধু চারটা দেয়াল বানালেন। তাকে কী আমরা ঘর বলবো? কিংবা শুধু একটা দরজা বা কয়েকটা জানালা দিয়ে কী ঘর বানানো যায়? যায় না। যদি গল্প লেখাকে একটা ঘর ভাবি, তাহলে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এরও একটা মেঝে, চারটা দেয়াল, ছাদ, জানালা আর দরজা আছে। মানে একটা কাঠামো আছে। যেটা ছাড়া একটা “গল্প”, গল্প হয়ে ওঠে না। ঘরের সাথে তুলনা করলে বলা যায়, মেঝে হচ্ছে গল্পের প্লট। যার উপর গল্পটা অবস্থান করে। চারদিকের চারটা দেয়াল হচ্ছে কাহিনি। ছাদটাকে প্রধান চরিত্র (নায়ক/নায়িকা) ভাবতে পারি। জানালা হচ্ছে ছোট ছোট চরিত্রগুলো। আর দরজা প্রধান পার্শ্ব চরিত্র। আর... ঘরটাকে কত সুন্দরভাবে রং করতে পারবো, কত সুন্দরভাবে সাজাতে পারবো, সেটা হচ্ছে বর্ণনাভঙ্গি বা গল্প বলার ঢং। আর বাকিগুলোর মতো এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের চারপাশে তো হাজারটা ঘরবাড়ি। সবই কি আমাদের নজর কাড়ে? কাড়ে না। সুন্দর ডিজাইন আর সুন্দরভাবে রং করা আর সাজানো ঘরব...

কিয়ামতের দিন আরশের নিচে যারা পাবেন স্থান।

Image
আমরা মুসলিম সম্প্রদায়। পরকালে বিশ্বাসী। দুনিয়া ত্যাগ করার পরই ইহকাল শুরু হবে এটা বিশ্বাস রাখি। অর্থাৎ কবরের জিন্দেগী দ্বারা ইহকালের পরম সূচনা হবে। দুনিয়ার জীবন যদি নেক আমল দিয়ে সাজিয়ে যেতে পারি তাহলে কবরের জিন্দেগী হবে সুখ-শান্তিময়। জান্নাতের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে আমাদের কবর। অন্যথায় ভয়ঙ্কর শাস্তি দ্বারাই শুরু হবে আমাদের ইহকালের যাত্রা। জাহান্নামের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে আমাদের কবর। এতো গেল প্রথম ধাপের অতি অল্প কথা। দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে কবরের জিন্দেগী পরিসমাপ্ত হয়ে কেয়ামতের দিন কায়েম হবে। কিন্তু বিচার ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পূর্বে আমাদের কিছুসময় কঠিন মুসিবতে পার করতে হবে। সেই কঠিন পরিস্থিতির সামান্য একটি উদাহরণ হচ্ছে, বর্তমানে সূর্য আর আমাদের মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে প্রায় নয়শত মাইলের ব্যবধান। তারপরও যখন গরমের দিন সূর্যের তাপমাত্রা একটু বেড়ে যায়। আমাদের অবস্থা নাজুক হয়ে পরে। কখনো কখনো তো সহ্যের বাহিরেও চলে যায়। অথচ হাদিসে শরীফে এসেছে.. কিয়ামতের দিন সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সূর্য আমাদের মাথার মাত্র অর্ধহাত উপরে অবস্থান করবে। ভেবে দেখেছেন! তখন আমাদের অবস্থা কেমন হতে পারে? কিয়ামতের দিনের কঠ...

হাসির খুরাক এক সুস্থ বিনোদন।

Image
কিছু মহিলা মারা যাওয়ার পরও তার ভালোবাসার ভাগ অন্য কাউকে দিতে চায়না। আজ এরকম-ই একটি সুস্থ বিনোদনের কাহিনি বলব। এক স্ত্রী তার প্রিয়তম স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যখন মরে যাব! তখন তুমি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কতদিন অপেক্ষা করবে? স্বামী অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে উওর দিলেনঃ আমি তোমার কবর শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর আগে কখনোই বিয়ে করবো নাহ। স্ত্রী বললঃ এটা কি তুমি আমার সাথে ওয়াদা করতেছো! স্বামী বললঃ হ্যাঁ ওয়াদা করলাম। এর কিছুদিন পর হটাৎ তার স্ত্রী মারা গেলেন। তারপর থেকে তিনি বেশ কয়েকবছর ধরে উনার প্রিয়তমা স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন। এবং একটা দীর্ঘসময় পার হওয়ার পরও একটি জিনিস লক্ষ করলেন, কবরটি এখনো শুকায়নি! অনেকদিন পর হটাৎ একদিন সন্ধ্যাবেলায় উনি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে আসলেন। এবং সেখানে এসে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর ভাইকে পেলেন। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি এখানে কি করো! তখন সে বললঃ আমি আমার বোনের শেষ অসিয়্যাতটি পূরণ করতে এসেছি।  তিনি আমাকে বলে গিয়েছিলেন তার মৃত্যুর পর যেন প্রত্যেকদিন তার কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেই। 😄 

নামাজের প্রতি সালেহীনরা কেমন যত্নশীল ছিলেন!

Image
আজকাল নামাজের প্রতি আমাদের কত গাফলতি আর অমনোযোগী। সেটা বলার বাহিরে চলে গেছে। আসুন সালেহীনদের দুটি অনুপ্রেরণামূলক বানী পড়ি! 🌴 يقول ابن الجوزي (رحمه الله): رأيتُ عجوزاً تتوضأ قبل الظهر بدقائق فسألتها: هل أذَّنَ؟ فقالتْ: أنا أذهبُ إلى الله قبل أن يُناديني! ইবনে জাওযী রহঃ বলেন, আমি জোহরের ওয়াক্তের আগে একজন বৃদ্ধকে ওজু করতে দেখেছিলাম। তাই তাকে জিজ্ঞেস করলাম আজান কি হয়ে গিয়েছে! তখন সেই বৃদ্ধলোক আমাকে বললেন, আমি আল্লাহর নিকট যেতে চাই তিনি আমাকে ডাকার আগেই। 🌴 و‌‎سئل أحد الصالحين: لماذا تذهب إلى المسجد قبل الآذان؟ فقال: الآذان لتنبيه الغافلين و أرجو ألا أكون منهم".   [التبصرة لابن الجوزي، ١٣١ ] একজন সালেহীনকে জিজ্ঞেস করা হল! আপনি আজানের পূর্বে কেন মসজিদে যান? তখন তিনি উওর দিলেন, আযান তো হচ্ছে গাফিলদের (অলসদের) জন্য। আর আমার আশা আমি যেন তাদের মধ্যে না  হই। সুবহানাল্লাহ নামাজের প্রতি তাদের কত মনোযোগ আর গুরুত্ব ছিল! অথচ আজ আমরা সামান্য সুযোগ পেলেই নামাজ কাযা করে ফেলি। আল্লাহ আমাদেরকে সালফে সালেহীনদের মত হওয়ার এবং প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করার...